তোমরা কুলাঙ্গার....



শাহরুখ খানের একটা ভিডিও দেখছিলাম। লন্ডনে গেছেন ভ্যাকেশনে। ফুটবল খেলতে মন চাইছে। তাই হাইড পার্কে  গেছে ফুটবল খেলতে। এরপর সেই খেলা নিয়ে কথা বলতে গিলে বললেন “এখানে অনেক জায়গা। তুমি চাইলেই যেকোনো সময় প্ল্যান করে চলে আসতে পারে খেলবার জন্য। আর আমাদের মুম্বাইতে তোমাকে শিডিউল করতে কোন মাঠে সপ্তাহের কোন দিন কোন সময় ফাঁকা পাওয়া যাবে।” ...


তিনি আরো বলেন “মুম্বাই এর নেই, লন্ডনের আছে। কারণ তারা নিয়েছিলো আমাদের কাছ থেকেই” ...

আসলে তো শুধু দিল্লী-মুম্বাই থেকে নয়, পুরো দুনিয়া থেকেই নিয়েছে তারা। তারপরও এদেশ, এই উপমহাদেশের মানুষদেরকে দেখা যায় একটা ফরেইনার দেখলেই দেবদূত দর্শনের মতো চমকিতো হতে।

ভালোকে ভালো বলো, উপকারীকে কৃতজ্ঞতা দেখাও - এর সবই ঠিক আছে। কিন্তু অনেকের ধারণা তাদের পা-চাটা হয়ে থাকাই জীবন। তাদের পা-ধোয়া জল এনারা অমৃত মনে করে শেবন করে।

আশ্চর্য হই, যখন এক বাঙ্গালী আর এক বাঙ্গালীকে ব্যঙ্গ করে এই জন্য যে সে তার খাবার হাত দিয়ে খাচ্ছে। চাইনিজরা যেখানে গেছে সেখানে তাদের সংস্কৃতি, খাবার-দাবার পরিচিত করিয়ে এসেছে, অভ্যাস করিয়ে এসেছে। আর বাঙ্গালীরা ফরেনে নিজের সংস্কৃতিকে ছেড়া গেঞ্জি লুকোবার মতো করে লুকিয়ে তাদেরটা শিখে আসে। হাত দিয়ে খেতে তাদের লজ্জা লাগে। লুঙ্গি পড়েন না, কারণ সাহেবরা তো থ্রি-কোয়ার্টার পড়ে। নিজের দেশের দশটা ভালো মানুষ, দশটা ভালো গায়ক, দশটা ভালো অভিনেতার নাম, দশটা ভালো লেখক, দশটা গান, কবিতা, উপন্যাস তিনি জানেন না, অথচ জানেন ওনাদের ইতিহাস থেকে আজ অব্দি। আধুনিক হওয়ার মানে নিজেরে সত্ত্বাকে বিসর্জন দেয়া নয়।

যদি বাঙ্গালী হওয়াটা, এদেশে সংস্কৃতিটুকু এতটাই লজ্জার হয়ে থাকে তবে দেশে থেকে দেশমাতাকে লজ্জা না দিয়ে নিজের লজ্জা নিবারণের ব্যবস্থা করুন। তোদের মতো কুলাঙ্গার না থাকলেও চলবে।

শেষ কথা হলো, যা কিছু ভালো তার সবই করো, কিন্তু নিজেরটা খারাপ, নিজের বাপেরটা খারাপ এমনটা ভেবে নয়। তিন বেলা চামচ দিয়ে ভাত খাও, বা লজ্জা ছেড়ে পোশাক পড়ে রাস্তায় নামো, বা ভিনেদেশী গান শুনে মাথা দোলাও ... সমস্যা নেই, সেসব তোমার ব্যাপার। কিন্তু সংস্কৃতিকে খারাপ বললে, অবমাননা করলে সেটা মেনে নেয়া যায় না। সেক্ষেত্রে তুমি বাংলা মা-য়ের শুধুই একটা কুলাঙ্গার।

Recommended Recommends

Comments

Contact Us