আরো একবার মনে পড়লো তোদের ...



আমিও একদা ছিলাম তোমাদের মতো, বন্ধু আমারও ছিলো, বন্ধুত্বের আনন্দঘন মুহূর্ত, আড্ডা-গান কোন কিছুই না পাওয়া হয় নাই, বরঞ্চ ধরে নিতে পারো আমি এসবের অনেকটা বেশি পেয়েছিলাম, আর কোন কিছুরই বেশী-বেশী ভালো নয়, তাই হয়তো আমারে কপালে বুঝি সইলো না কিছুই। নিজের সবটুকু দিয়েছিলাম বন্ধুত্বের নামে কিন্তু, সে যাই হোক, সব কিছু শেষ হওয়ার আজ কয়েকটা বছর পেরিয়ে গেছে। দুই ব্যাচ বন্ধুও আজ অজানা কোথাও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সবকিছু ভুলে আজ আবারও হঠাতই তোদের মনে পড়লো। আমি চাইনা কখনো, কোনদিনও তোদের কারো সাথে আমার আর দেখা হোক, কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে চোখের সামনে, ঠিক শূণ্যে অতীতের দিন গুলো ভেসে উঠলো। বাঁধন-ছাড়া দিনগুলি, সময়কে যেখানে থমকিয়ে রাখতাম আমরা, আনন্দের অবকাশ যেখানে লেগেই থাকতো, ফূর্তির অফুরন্ত ফূরসত যেখানে পাওয়া যেতো, বন্ধুর জন্য জীবন-বাজি রাখবার দুৎসাহস-ছেলেমানুষি যেখানে দেখাতাম আমরা। 


সেই বাঁধ, যার মাথায় ছিলো একটা রাবার গাছ আর তার ঠিক নীচে বসবার বেঞ্চ, নদীর মাঝখানে পর্যন্ত ছিলো সে বাঁধ, আমার তার মাথায় ঐ রাবার গাছের নীচে বসতাম, একটা গোল্ডলিফ ছ’জনার হাত ঘুরেই ফুরোতো না। অথবা সেই নদীর ধারের সেই ঝাউ বন, যেখানে সারাটা দিন পাথরের ওপরে শুয়ে বসে সময় কাটাতাম, চটপটি খেতাম মাঝে মাঝে, আর সিগারেট কখনো নিভতো না। অথবা সেই মার্কেটের সন্ধাগুলো, মেয়েদের দেখলে কমেন্ট করতে পারতাম না জন্য যেখানে তোরা আমাকেই মেয়ে বলে ক্ষ্যাপাতি। সেই স্টেশন, স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি ... গিয়ে দেখ সব আজো সেরকমই আছে। ওখানে আজো বন্ধুত্ব খেলা করে, ভাঙ্গে, গড়ে।

হয়তোবা আজ এতদিন পরে সেই দিনগুলি মনে পড়ছে কারণ আমার তেমন আনন্দ করতে ইচ্ছা করছে, আর আমার এমনটাই ভাবতে ভালো লাগছে, তবু তোদের ফিরে চাই না আমি। নতুন কোন বন্ধুত্বও না। যদি তোরা জীবনে কোন অন্যায় করে থাকিস তবে ভগবান যেনো তোদের শাস্তি দেন, কিন্তু আমি চাইবো, তোরা ভালো থাকিস। সবাই ভালো থাকুক।


Recommended Recommends

Comments

Contact Us