মন্দির-বিগ্রহ ভাঙ্গাভাঙ্গি?...ভালো কাজ। শুনেছি, অনেক সময় ভালো নামে ডাকার চাইতে খারাপ নামে ডাকলেই শুনিবার সম্ভাবনা বেশি থাকে...




মন্দির ভাঙ্গা আবার নতুন কিছু হলো নাকি। মন্দির তো ভাঙ্গবার জন্যই। ছোট্ট থেকেই তো পেপারে পড়ে আসছি, প্রতিবার দূর্গা পূজার আগে বিগ্রহ ভাঙ্গা হয়, মন্দির ভাঙ্গা হয় ইত্যাদি। তাছাড়াও স্থায়ী মন্দির গুলোতে চুরিও হয়।

আচ্ছা বলুনতো, এতে আমার কী-বা করার আছে? মানুষের বাড়িতে চুরি হলে না হয় মানবিকতা নিয়ে আগায়ে যাইতাম, কিন্তু স্বয়ং ভগবানের উপর হামলা হলে আমার কী করার আছে। আমি তো মানুষ, সর্বশক্তিমানের ক্ষমতার কাছে নস্যি মাত্র। সেই সর্বশক্তিমান যদি বিপদে পড়ে যায় তাহলে তাতে আমি কী করতে পারি।


যার কাছে অভয় চেয়ে সকাল-সন্ধ্যা প্রার্থনা করি, যার নাম স্মরণে ভীতি কেটে যায়...তাকে সাহায্য করিতে চাওয়া, বিপদ থেকে উদ্ধার করিতে চাওয়া তো সরাসরি তাকে অপমান করারই সামিল।

পথে-ঘাটে, রণে-বনে যেখানে বিপদে পড়ি তাহাকে স্মরণ করি, অথচ কী আশ্চর্য, মাঝে মাঝে শুনতে হয় কে বা কাহারা আসিয়া উনার শিরোচ্ছেদ করিয়া গিয়াছেন, পা কাটিয়া হাতে ধরাইয়া দিয়াছেন, বেদীতে বসায়ে দিয়া গিয়াছে কোদালের কোপ....

যাই হোক, এসবে আমার কিছু করার নেই। সর্বশক্তিমান নিজেই ধরাশায়ী, তো আমি ধূলিকণাসম জীব কীভাবেই বা কী করিবো। যাহার আজ নিজেকেই রক্ষা করিবার সামর্থ নাই তাহার মুখে 'সমগ্র জগতকে রক্ষা করিবো' এমন কথা মানায় না।

--------------

নিদ্রা গিয়াছেন তিনি। ডাকিয়া ডাকিয়া কণ্ঠনালী ছিড়িয়া গেলেও তার ঘুম ভাঙ্গিবে না। মাঝে মাঝে ঘুমের ঘোরে উঠে বসেন আর অপাত্রে দান করিয়া 'কলি কালে এমনটাই হবে, ইহাই আমার লীলা' বলিয়া পুন:নিদ্রাগত হন।

ঠাকুর, আমাদেরকে রক্ষা তোমার করা লাগবে না, তুমি নিজেরে রক্ষা করিও, তুমি নিজেরে রক্ষা করিতে পারিয়াছো দেখিলেই আমরা সাহস পাইবো আগাইয়া যাইবার। কিন্তু তুমি নিজেই ধরাশায়ী হয়ে পড়িলে মোদের সাহস আসিবে কোথা থেকে?

--------------

আমার স্কুলের এক বন্ধুর নাম ছিলো জামাল। ক্লাসে অফটাইমে সবাই যখন গ্রুপ করে করে বা এলোপাথারী আড্ডা দিতো তখন অনেক সময় জামালকে জামাল বা মামুনকে মামুন বলে ডাকিলে সাড়া পাওয়া যেতো না, কিন্তু যখন জামালকে জামাইল্যা, মামুনকে মামুইন্যা বলে ডাকা হতো তখন তাহারা চকিত সম্বিত ফিরিয়া পাইতো আর হাঁকিয়া উঠিতো "কে রে.." বলিয়া। 

ভক্তের ডাকে তো তোমার ঘুম ভাঙ্গলো না ঠাকুর, এবার দেখি আর্ত-চিতকার শুনে অথবা স্বয়ং তুমি হামলার শিকার হয়ে নড়িয়াচড়িয়া বসো কিনা। অবশ্য সেই আশারও গুড়ে বালি। সেসবও তো শতাব্দি-সহস্রাব্দি ধরিয়া চলিতেছে, কিবা এমন হইয়াছে।

--------------

ঠাকুর, হয়তোবা পূর্বজন্মগুলোতে অনেক পাপ করিয়া ছিলাম তাই কলি কাল চলে এলো তবু আমার আত্মার রি-ইউজ বন্ধ হইলো না। কিন্তু শুধু কলি কালকে কারণ দেখাইয়া এমন অত্যাচার, নীপিড়ণ, হানাহানি, হত্যা, লুন্ঠন তুমি আমাদেরকে মেনে নিতে বলতে পারো না।

যা করার তা তোমাকেই করিতে হইবে। আমাকে রক্ষার দায়িত্ব তোমার, তোমাকে রক্ষার দায়িত্ব আমার না ঠাকুর। 

-------------

সবশেষে, আগে লেখা একটি ছড়া/কবিতা: ও ভগবান

JOIN THE COMMUNITY

Never Miss What"s New !

No SPAM, only email notification if new posts were published.

Recommended Recommends

Comments

Contact Us