বারান্দা




ফাঁকা রাস্তা না হলেও কেমন যেনো মৃতপুরীমার্কা
হেঁটে চলা মানুষগুলো ক্লান্তিতে ক্লান্তিতে গ্লুকোন-ডি এর এ্যাড এর মতো
পাশের বাড়িগুলোতে আলো জ্বলছে কিন্তু কোন প্রাণ নেই
রাজকীয় বাড়ি সব, বারন্দায় বড় বড় ঝাড়বাতি


আমার রিকশাওয়ালা বড়ই বেরসিক
আমাকে নামিয়ে আরেকটা ভাড়া ধরবার তাড়া ওনার
ঝাকিতে ঝাকিতে আমার কোমড় ব্যাথা
বললাম "১০ টাকা বেশি নিও তবু ধীরে চালাও"

প্রতিটা বাড়িতেই ছোট করে একটি-দুটি লাগোয়া বারান্দা ঝুলছে
মনের মধ্যকার স্বপ্নটা দুলে উঠলো
ওমন একটা বারান্দা যে আমারো চাই
দুটি চেয়ার, দু'কাপ কফি, দু'জন মানুষ
এমনি কোন সন্ধায় ডুব দিবো কোন কল্পনায়

এভাবে কেউ গাড়ির হেডলাইট জ্বালায়
চোখ জ্বালা ধরে গেলো
স্বপ্নটা চোখ থেকে উবে গেলো যেনো
ঘরে পাখি ফেরার মতো করে বাড়িতে ঢুকছে গাড়ি গুলো
বেচারা রিকশাওয়ালা গতি কমাতে বাধ্য হলো

পকেটে কিছু টাকা ছিলো তাই ভয় হচ্ছিলো
কি হয় না হয়
তাড়াতাড়ি চলে যাওয়াই ভালো বাবা
খামোখা টেনশন বাড়িয়ে লাভ কি
অঘটনের কি কোন আছে সময়

কী সুন্দর নীল আলোর বন্যা ঐ ছোট্ট বারান্দাটায়
এক মা তার ছোট্ট মেয়েকে কিছু খাওয়াতে চাইছে
সে কি আর শোনে? গ্রিল ধরে জেদাজেদী করছে
"খাবো না খাবো না, বাবা আসুক বলে দেবো"
আর একবার ঘাড় ঘুড়িয়ে বারান্দাটা দেখে নিলাম
নাহ, চলবে না, একটু বেশিই ছোট

অনেক গুলো বারান্দা দেখলাম
গুণি নাই, তবে অনেক গুলো
মনটা আমার মনের অজান্তেই ছুটে ছুটে চলে গেছে বারান্দাগুলোতে
যেমনটা আমি ছিলাম ছোট বেলায়
রাস্তার খেলনার দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদতাম
আর মা এসে হাতটা ধরে কি অত্যাচারীর মতো টেনে নিয়ে যেতো
মোড় ঘুড়তেই আবার একটা খেলনার দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে যেতাম
মা আবারো আমাকে টেনে নিয়ে যেতো
খেলনা না পেয়ে অনেক কেঁদেছি
দিতে না পেরে মা তার চেয়েও অনেক বেশি কেঁদেছিলো

Recommended Recommends

Comments

Contact Us