রিকসা, বাস, ট্রেন ইত্যাদি - এ অসামাজিক নোংরামি.....বিব্রতকর পরিস্থিতি




ব্যপারটিকে আপনারা কিভাবে দেখবেন জানি না, কিন্তু বর্তমানে আমাকে প্রায়ই বিব্রতকর অবস্থায় পরতে হচ্ছে, বিশেষ করে আমার সাথে যখন কোন গুরুজন ব্যক্তি থাকছেন। অন্যসময় তাও চোখ ফিরিয়ে যাওয়া যায়, কিন্তু এটুকু নিশ্চয় বুঝতেই পারছেন যে সাথে গুরুজন থাকলে ব্যপারটি কেমন হয়।


ঘটনা ১: এই একটু আগে সন্ধ্যা ০৮.০০ থেকে ০৮.১৫ এর দিকে আমি রিকসাতে করে আসছিলাম নিউমার্কেট থেকে ফায়ার ব্রিগেড মোড়ের দিকে। ঠিক মিউজিয়ামের আগের জায়গাটা একটু অন্ধকার হয়ে থাকে কয়েকটি বড় বিস্তৃত গাছের জন্য। সে জায়গাতে পৌঁছুতেই হঠাৎ রিকসাওয়ালা আমাকে বলল দেখেন মামা, দেখলাম তার ইশারা সামনের রিকসার দিকে। সেদিকে চোখ দিতেই পেছন থেকে যা দেখলাম তার বর্ণনা এখানে করি কিভাবে? যাই হোক, দেখলাম একটি ছেলে ও মেয়ে বসে আছে। ছেলেটি তার একটি হাত মেয়েটির পেছন দিয়ে নিয়ে বুকের কাছাকাছি পর্যায়ে যেয়ে অদৃশ্য হয়ে গেছে। রিকসাওয়ালা যেনো জোশে উঠে গেলো। আমি বললাম, রিকসাটাকে ক্রস করতে। বেচারার যেনো বিনোদনটাই মাটি করে দিলাম। ততক্ষণে রিকসা মিউজিয়ামের সামনে। মিউজিয়ামের সামনে যে নতুন লাইটগুলো লাগাইছে, রিকসা ক্রস করতেই সে আলোতে যা দেখলাম তা হলো, তাদের দেখে ভাই-বোন মনে হচ্ছিলো, আই মিন তাদের বয়স ও ক্লাস সেম। বড়জোড় তারা ইন্টারমেডিয়েট ১ম বর্ষের ছাত্র-ছাত্রী। কোন প্রাইভেট বা কোচিং হোম থেকে বাসায় ফিরছে। কারণ তাদের উভয়ের পিঠেই স্কুল ব্যাগ। ব্যাস এ পর্যন্তই। পোস্টটি লেখার সিদ্ধান্ত নিলাম তখনই।

ঘটনা ২: আজ থেকে মাস ছয়েক আগের কথা। ঢাকা থেকে সিল্ক সিটি ট্রেনে (যে ট্রেনটি রাজশাহী থেকে সকালে সিল্ক সিটি হয়ে ছাড়ে এবং ঢাকা থেকে বিকালে ছাড়ে) রাজশাহী আসছি। এসি বগিতে সেদিন লোক কম ছিলো। যাই হোক ট্রেন তখন যমুনা সেতু পাড় হয়েছে। কিছুটা আধাঁর নামছে। টয়লেটে যাবার জন্য উঠে সামনে দিকে এগুতে লেগেই চক্ষু চড়কগাছ। ঘটনার বর্ণনা একটু রয়ে সয়ে দিচ্ছি কারণ ঘটনা বড়ই আশ্চর্যজনক ছিলো। তাদেরকে দেখেই বিবাহিত মনে হচ্ছিলো। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে যেটুকু অবলম্বন করলাম তা হলো, ছেলেটির পোষাক আষাক ফরমাল আর মেয়েটি মুখ খোলা বোরকা পরিধান করে ছিলো। ছেলেটির পা মেয়েটির জড়োসড়ো হওয়া পা দুটোর উপরে ছিলো আর হাত.......বাদ দেন। যাই হোক, পলকের মধ্যে স্থান ত্যাগ করার পর কাজ সেরে ফিরে আসলাম। তারা যেই সারিতে বসে ছিলো সেই সারিতে শুধু তারাই ছিলো। আমার পাশে ছিলেন একজন বয়স্ক মহিলা। সারা রাস্তা তিনি একটি বই পড়তে পড়তে আর চা খেতে খেতে আসছিলেন। আমি এসে বসার পর তিনি গেলেন এবং ফিরে আসার সময় তিনি যে কতটা বিব্রতকর অবস্থায় ছিলেন তা তার চোখমুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো। এরপর আমি গার্ডকে বিষয়টি অবহিত করি এবং তিনিও আমার মতো অল্পবয়সি একজনের মুখে ঘটনা শুনে বিব্রত হয়ে পড়েন। আমার কথামতো তিনি ওদের সারিতে গিয়ে বসেন একটি ফাঁকা সিটে। উফফফ...তাদের মনে হয় জার্নিটাই নষ্ট করে দিছিলাম সেদিন। তবে বিয়ে হলে রাস্তাঘাটে , বাসে ট্রেনে এসব করার সার্টিফিকেট পাওয়া যায় কিনা তা বিয়ে-ধারীরাই জানাবেন।

ঘটনা ৩: রাজশাহী চিড়িয়াখানার প্রেমতলী। এইখানকার ঘটনা আর লিখা সম্ভব না।

এছাড়াও এরকম পরিস্থিতিতে বহুবার পড়তে হইছে। রিকসা এর ব্যপারটি যেনো অনুমোদিত হয়ে গেছে। রিকসাতে উঠলেই শুরু হয়ে গেলো।

এসব ছাড়াও ছায়াঘেরা সুনিবীড় শান্ত শীতল পার্ক গুলো যেনো এসব করার জন্য বিশেষ ভাবে তৈরিকৃত স্থান। কি সুন্দর সুন্দর করে পজিশন বেছে বেছে বসার বেঞ্চগুলো বসানো। বিশেষ এ্যাঙ্গেলে না দেখলে কেউ বুঝতেই পারবে না যে ওখানে কেউ আছে। এখন তো পরিস্থিতি এমন যে কোন পার্ক, ইভেন নদীর ধারে গেলেও চোখ কান খোলা রাখতে হয় যেনো বিব্রতকর কোন কিছু চোখের সামনে না পড়ে যায়।

এত গেলো আমাদের আন-স্মার্ট গ্রাম্য রাজশাহীর কথা। আমার বন্ধু যারা ঢাকায় থাকে তারা তো বলে, "দোস্ত, হেইডা তো কোন ব্যপারই না। ব্যপক বিনোদন বুঝছস। প্রাইভেট কার-এ চোখ রাখবি আর দেখবি।" তারা আরো বলে যে বিভিন্ন প্রাইভেট ভার্সিটির স্টুডেন্টরা নাকি বনানী এলাকায় রাত ১০ টার পরও তাদের বান্ধবীদের সাথে ব্যপক আড্ডায় লিপ্ত হয়। এই 'ব্যপক' আড্ডাটা যে কি???

যাই হোক, এই সব কিছুই যেনো আজ বড়ই স্বাভাবিক ব্যপার হয়ে গেছে। মার্কেট থেকে শুরু করে কলেজের ফাঁকা রুম সব জায়গাতেই চলছে, আমরা দেখছি, কেউ উপভোগ করছি কেউ চোখ নামিয়ে চলে আসছি। এসবের কি কোন প্রতিকার নেই???

JOIN THE COMMUNITY

Like & Share with people you care

No SPAM, only email notification if new posts were published.

Recommended Recommends

Comments

Contact Us