মা, তবে কি এটাই সত্য যে তুমি তোমার সন্তানদের সমান চোখে দেখতে পারো না...







মা, তুমি তো সবারই মা। যেমনটা তুমি আমার তেমনটাই তুমি অন্যদের। সবাই আমরা তোমাকে মা বলেই ডাকি। তবে এই বিভেদ কি তুমিই তৈরি করে দিয়েছো !! আমার তা বিশ্বাস হয় না।



ওরা বলে, আমি নাকি ধর্ম মানি না। কথায় কথায় নাস্তিকদের মতো ধর্মের ভুল-ত্রুটি বেড় করে আনি, সমালোচনা করি। কিন্তু আমি কি করবো? আমার কি দোষ? চোখে যে পড়ে যায় ধর্মের নামে শব্দহীন অত্যাচার।



ওরা বলে, দ্যাখ দ্যাখ, ঘোর কলি কাল এসেছে, বামুনের ছেলে কিনা ক্ষত্রিয়ের বাড়িতে ভাত খায়। কিন্তু মা, ঐ ক্ষত্রিয়ও তো তোমারই সন্তান। তবে আমি কেনো ওর বাড়িতে খেতে পারবো না, বোঝাও আমাকে?



মা গো, ওরাও আমারই মতন তোমাকে ডাকে, তোমাকে শ্রদ্ধা করে, তবে ওদের কেনো অধিকার থাকবে না তোমার পূজা করার? কেনোই বা তোমার পূজো দিতে হলে ডেকে নিয়ে আসতে হবে ব্রাহ্মণ পুরোহিত? কেনোই বা তোমার মন্দিরে, তোমার বেদীতে অধিকার থাকবে না?



সবাই বলে মা, যে এসব নাকি শাস্ত্রে লিখা আছে। কিন্তু আমি তা বিশ্বাস করতে পারি নি, পারবো না। তুমি এত ছোট মনের হতে পারো না যে তুমি আমাদের মাঝে বিভেদ করবা। এই শাস্ত্র, এই ধর্ম হাজার হাজার বছরের পুরোনো। আর আমি এটাই মানি যে এই শাস্ত্র যতটা না তোমার দ্বারা প্রণীত তার চেয়ে বেশি কিছু স্বার্থান্বেষী মানব নামের কলঙ্ক দ্বারা সম্পাদিত। এরা মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরী করে দিয়ে গেছে। নিজের ভগবানের পূজা দেওয়ার অধিকার ওরা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। পড়াশোনা করার অধিকার, মাথা উঁচু করে সবার সাথে একই পরিচয়ে, মানুষের পরিচয়ে বাঁচার অধিকার ওরা কেড়ে নিয়ে গেছে।



আর যদি এটাই সত্যি হয় যে তুমি নিজেই এ বিভেদ তৈরি করে দিয়েছো, তাহলে আমি বলবো তোমার চেয়ে ঢের বড় মনের মানুষ এ পৃথিবীতে এসেছে, আছে যারা মানুষকে শুধু মানুষ হিসেবেই চিনেছে। যারা কোন বিভেদ করে মানে নাই। তারা না ধর্ম দিয়ে মানুষকে বিভেদ করেছে, না করেছে ধর্মের মধ্যে থাকা জাত-বর্ণ-গোত্র দিয়ে।

JOIN THE COMMUNITY

Never Miss What"s New !

No SPAM, only email notification if new posts were published.

Recommended Recommends

Comments

Contact Us