অংকটা কর, এতকাল যখন বুঝিস নি আর বুঝবি না, মুখস্থ কর, পরীক্ষাতে আসবেরে গাধা




"গরু কোথাকার, একটা অংক এতদিনেও বুঝিস না। যা বাড়ি যেয়ে মুখস্থ কর। এই অংক পরীক্ষাতে আসবেই আসবে। এতকাল যখন বুঝিস নি আর বুঝবি না। চোখ বন্ধ করে ঠোঁটস্থ কর। .........."

গণিতের মতো বিষয় যদি আমাদেরকে কিছু মার্কস এর আশায় মুখস্থ করানো হয় তাহলে সেই গণিত বা মার্কস দিয়ে লাভ কি?

আমরা অন্ধের মতো মার্কস এর পেছনে ছুটছি। কিছু বোঝার সময় নাই, কিছু পড়ার সময় নাই, বুঝতে পারলে ভালো না পারলে মুখস্থ।


এ+ । 
দারুণ একটি ব্যপার। মেধাবীতে দেশ উপচে পড়ছে।

মেধা । এটা আবার কি? মনে রাখার ক্ষমতা = মেধা?

যদি একটি বিষয় কেউ বুঝতে পারে তো সেটা বলার জন্য সেটা মুখস্থ করার প্রয়োজন পড়ে না কখনোই। পরীক্ষাতে দেখার বিষয় হওয়া উচিত সেটাই যে শিক্ষার্থী কোন একটি বিষয় বুঝতে পেরেছে কিনা। দেখার বিষয় এটা হওয়া উচিত নয় যে, শিক্ষার্থীটি আমার নোটটি এখানে হুবহু লিখতে পেরেছে কিনা।

জ্ঞানের চর্চা নয়, যা হচ্ছে তা হচ্ছে শুধু "ডিকশনারী অব ডেফিনিশন" তৈরির চর্চা।

পরীক্ষার নামে হচ্ছে "বমি উৎসব"।
সারা বছর খাও, পরীক্ষার হলে বসে উগড়ে দিয়ে আসো। এতে করে এ+ তো পাওয়া যাবে, কিন্তু মানসিক বিকাশ, বা বুদ্ধির বিকাশ বা জ্ঞান চর্চা কোনদিনও হবে না।

যেখানে শিক্ষক তার শিক্ষার্থীকে উপদেশ দেয়, "ভালো করে পড়ো। ভালো রেজাল্ট করো। তারপর বের হয়ে ভালো একটা চাকুরী করো।" সেখান থেকে কি আশা করা যেতে পারে।

আমরা বলি যে আমরা বিজ্ঞান পড়ি, চর্চা করি। কিন্তু আমার বন্ধু এহসান-ই ঠিক বলে, "বিজ্ঞান চর্চা তারাই করছে যারা বিজ্ঞান চর্চা করে এসেছে, অর্থাৎ উন্নত দেশগুলোর মানুষগুলো। আমরা বিজ্ঞান চর্চাতো দূরে থাক, বিজ্ঞান এর বিষয়গুলোকে জানতেও রাজি নই। সেটা করতে গেলে যে সময় ক্ষ্যাপন হবে তাতে করে এ+ মিস হয়ে যেতে পারে।"

আমরাতো হাতে একটা আইফোন পেলেই খুশি। ঘরে একটি হাই-ফাই কম্পিউটার থাকলেই তো হলো।

সেই কবে ব্রিটিশরা চলে গেছে কিন্তু আজো লেখাপড়া শেষে আমরা কোন না কোন ভাবে তাদের বা তাদের মতো অন্য কোন দেশের কোন কোম্পানীতে গোলামের চাকুরে হয়েই জীবন পার করে সুখের ঢেঁকুর তুলছি।

কারণ কী? কারণ আমরা নিজেরা কিছুই করতে পারি না। আমরা পড়ি, পরীক্ষা দেই, সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে দৌঁড় দেই চাকুরীর জন্য.....

লেখাপড়া শেষ হয়ে যায় চাকুরী পাওয়া মাত্র। অবশ্য, যে লেখাপড়া আমরা স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলে করি তা দিয়ে আর যাই হোক গবেষণা কর্ম চালানো যায় না।

এখানে আমাদের দোষটাইবা কি, মেশিনের ডেফিনিশন পড়তেই তো মাথা খারাপ হয়ে গেলো, একবার এ+  নিয়ে পরীক্ষাটা পার করতে পারলে আবার সেই মেশিন নিয়ে ঘাটে কোন গাধা !! তাই নয় কি?

আমার বাবা একজন শিক্ষক, গণিতের শিক্ষক। তিনিও তার জীবনে বহু ছাত্রকে এভাবেই অংক মুখস্থ করাইছেন। আমি তার সাথেও তর্কে লিপ্ত হতে ছাড়িনি। তিনি আমাকেও বলেন, "যেভাবে পারো রেজাল্ট নিয়ে আসো। রেজাল্ট থাকলে সব ঠিক।"

আমি আগে খুব ঝগড়া করতাম, এখন হেসেই উড়ায় দেই। এই মানুষ গুলো আর চেঞ্জ হবে না। কিন্তু তাই বলেতো আমি তাদের সাথে গা ভাসায় দিতে পারি না। জীবনে কি হবো, কতো বড় হবো তা জানি না, জানতেও চাই না। কিন্তু লেখাপড়ার নামে যা হচ্ছে তা কোনদিন মেনে নিবো না, এবং আজন্ম এর বিরোধীতাই করে যাবো।

বাংলা সাহিত্যের স্টুডেন্ট সাহিত্যের কোন চরিত্রের চারিত্রিক বৈশিষ্ট মুখস্থ করে নোট থেকে, অথচ সেটা তার সম্পূর্ণ ভাবে নিজে থেকে করা উচিত ছিলো। সিএসই এর স্টুডেন্ট অ্যালগোরিদম মুখস্থ করে, কোড করতে পারুক বা না পারুক অ্যালোগোরিদমটি সে হুবহু লিখে দিতে পারবে। গণিতের ছাত্র গণিত মুখস্থ করে ১০ এ ১০ পাবার জন্য।

জানি না কবে এসব চেঞ্জ হবে, কিন্তু যতদিন না চেঞ্জ হবে ততদিন পর্যন্ত উন্নত দেশের উন্নত মস্তিস্কগুলোর উর্বর ফসলের জন্যই আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে

JOIN THE COMMUNITY

Never Miss What"s New !

No SPAM, only email notification if new posts were published.

Recommended Recommends

Comments

Contact Us