গুরুজন এবং আমাদের ভয় এর সামাজিক/পারিবারিক ব্যবস্থা




আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটটা এমন যে এখানে গুরুজন শব্দটার ওজন অনেক বেশি। গুরুজনের বাড়াবাড়ি একটা বড় সমস্যা। পারিবারিক চাপ হত্যা করে শিশুকে। আজো ম্যাক্সিমাম পরিবারে গেলেই দেখা যাবে একটি ১৮+ ছেলে বা মেয়ে কোন জামাটা পড়বে, কোন বইটা পড়বে, কি দেখবে, কি বলবে এসব ব্যাপারে পরিবারের বড়দের মাত্রাতিরিক্ত চাপাচাপি। কিন্তু কেনো? বেশ বুঝলাম, একটা টিভি চ্যানেল আছে যেখানে নোংরা অনুষ্ঠান প্রচার করে। কিন্তু বড়রা শুধু এটা বলেই খালাস যে ঐ চ্যানেলটা দেখা যাবে না। কিন্তু তারা এই শাসনটি দিয়েই সমস্যাটাকে আরো জটিল করে কারণ নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতিই মানুষের আকর্ষণ বেশি। তাদের উচিত হতো ছোটদের এটা বোঝানো যে কেনো ঐ অনুষ্ঠানগুলো নোংরা এবং সেগুলো কিভাবে তার ক্ষতি করতে পারে।


বড়রা এটা বোঝে না যে মাথা নিচু করে থাকা ছেলেটি বা মেয়েটি ভেতরে ভেতরে শুধু সুযোগের অপেক্ষায় থাকলো ঐ নোংরা নিষিদ্ধ জিনিসগুলো দেখার।

আমাদের পরিবার প্রথা আমাদেরকে শ্রদ্ধা করতে শেখায় না, শেখায় ভয় করতে। মাস্টার মশাইকে ভয় করতে হবে, বাবা কে ভয় করতে হবে, দাদা-নানাকে ভয় করতে হবে। তাহলে কি এনারা হার্মফুল কোন জন্তু? আমরা পরিবারে/সমাজে থাকি নাকি কোন বিষাক্ত প্রাণীকুলের জঙ্গলে?

আমরা ফ্র্যংক না। বাবা, মা, বড় ভাই, বড় বোন---কারো সাথেই আমরা ফ্র্যংক হতে পারি না। একটা ডিসটান্স থেকে যায়। তাই ভালো মন্দ, পরিত্যাজ্য গ্রহণীয়....জীবনের চলার পথের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ছোট থেকেই আমাদের অজানাই থেকে যায়।

একটা মেয়ে, একটা ছেলেকে ভালোবেসে ফেলেছে। কিন্তু এই কথাটি সে বাসায় বলতে পারে না। ভয় পায়। সমাজের, পরিবারের। অথচ একবার ভেবে দেখুনতো এটা কতখানি ন্যাচারাল। অথচ এই সম্পূর্ণ ন্যাচারাল ব্যপারটি তাকে পরিবারের অগোচরে করতে হয়। বয়সের দোষে অথবা হঠাৎ ভালোবাসা বা চোখে রঙ্গীন চশমার কারণে উঠতি বয়সি ছেলে মেয়েরা না বুঝে শুনেই যার তার সাথে রিলেশনে জড়িয়ে পরে, যেখানে সে প্রতারিত হতে পারে। আর ঐ একই সামাজিক/পারিবারিক ভয়ের কারণেই এই প্রতারণার কথাটিও সে গোপন রাখে। মানসিক চাপ বাড়ে। মেয়েটি হয়তোবা চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহণনের পথে পা বাড়ায় আর ছেলেরা নেশার পথে। যে পথেই যাক না কেনো, এই মিথ্যে ভয় এর কারণে নষ্ট হয় জীবন।

একবার ভাবুন ঐ মেয়ে বা ছেলেটি যদি তাদের ভালোবাসার কথা বাসায় ফ্র্যংকলি জানাতো তাহলে কি হতো। পরিবারের বড়রা এই ব্যপারে খোঁজ নিতে পারতো, এবং প্রতারণার সম্ভাবনা বা এটলিস্ট ছেলেটি/মেয়েটি খারাপ হলে সে ব্যপারে সে তার বাড়ির ছেলে বা মেয়েটি সতর্ক করতে পারতো, বুঝাতে পারতো যে তার এই পদক্ষেপটি ভুল।

কোন মেয়ে ধর্ষিতা হলে থানা-কেস-কাচারী করতে পারে না লজ্জায়। চাপা যন্ত্রনাই তার ভবিষ্যতের সঙ্গী। এটা অবশ্য এখন অনেকটাই গেছে।

বাবার ধমক খেয়ে পড়ার টেবিলে মুখ গুজে থাকা বাঙালী আমরা, তাই পড়ার টেবিল ছেড়ে বাইরের পৃথিবী দেখতে পারি না। অনেকে এ কথাটা বললে আমাকে বলে, এখন পড়ো-ওসব রিসার্চ, ক্লাব, গ্রুপিং, প্রজেক্ট, ট্রাভেলিং করার বহু সময় পাবা পরে। হয়তোবা পাবো। কিন্তু এই কথাটির কি হবে,

"সাউথ কোরিয়ার ছেলে মেয়েরা তাদের চতুপার্শে প্রযুক্তির ভান্ডারের মাঝে বড় হয়ে উঠছে। প্রতি সপ্তাহেই সেখানে মেলা, প্রদর্শনী হচ্ছে। এখানকার ৫ বছরের বাচ্চা যা দেখছে আমি তা দেখছি ৩২ বছর বয়সে এসে।"

উপরের কথাগুলো একজন রিপোর্টারের। ছোট থেকে আমরা যা চর্চা করতে পারি তা না করায় আমাদেরকে বেধে রাখা হয় চেয়ারের সাথে, বই পুস্তকের সাথে। উদ্ভিদ বিজ্ঞান পড়ি, কিন্তু উদ্ভিদ দেখার সময় হয় না কোচিং, প্রাইভেট এর চাপে।

ক্যাম্পাসে গ্রুপ, ক্লাব এর চর্চা কিছুটা আছে। তবুও সেটার আরো ব্যপকতা আশা করবো।

Recommended Recommends

Comments

Contact Us