পরিবারের অগ্নিমূর্তি; সন্তান কতো অসহায়



পরিবার আর সমাজের চাপ এর কাছে স্বয়ং ভগবান রাম নিজেই অসহায় ছিলেন। তাইতো তিনি মা সীতা এর অগ্নিপরীক্ষা নিতে চেয়েছিলেন। মা সীতা ধরিত্রী মাতার কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন তখন। আর এখানেই আমার আক্ষেপ। তিনি কেনো ওভাবে চলে গেলেন? কেনো তিনি রাম কে ত্যাগ করলেন না মূহুর্তের মধ্যেই? তা তো নয়ই, উল্টো নিজেই দেহত্যাগ করলেন।

যা লিখতে চাচ্ছি তা ভিন্ন কথা তবে রিলেটেড। পারিবারিক/সামাজিক চাপ। বিয়ের চেয়ে ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্ত আর কি হতে পারে? অথচ এই জায়গাতে আসে পারিবারিক আর সামাজিক চাপ। ইভেন, কাউকে ভালো যদি বাসি তবু তাকে পাবার জন্য নিতে হবে হাজার জনের অনুমতি যেখানে তার নিজেরই কোন আপত্তি নাই। আমি যাকে ভালোবাসি তার যদি কোন আপত্তি না থাকে তাহলে আর ১০ জনের কাছে কেনো আমাকে অনুমতি নিয়ে বেরাতে হবে?

একটা মেয়ের বিয়ে ঠিক হইছে। ছেলেটার সবকিছু ভালোই, অন্তত আমি যতদূর জানি। কিন্তু ছেলেটিকে মেয়েটির পছন্দ হয় নাই। আর এটুকু বলার জন্যই তাকে শুনতে হচ্ছে হাজার কথা।

গত পরশু দিন মেয়েটির মামা তার মাকে ফোন করে বলে, "ওর মতামতের তো কোন দরকার নাই। ও মতামত দেওয়ার কে? আমরা যা ভালো বুঝছি তাই হবে"।

এরপর মেয়েটির সাথে কথা বলে এভাবে, "কি রে, তোর সমস্যা কি? বেশি বেশি কথা শিখছিস তাই না? আমরা ভালো মন্দ বুঝি না? আর একটা কথা বললে চড় খাবি। চুপচাপ থাকবি। যা আমরা বড়রা ডিসিশন নিবো তাই হবে।"

এ পর্যন্ত শোনার পর আর শুনতে পারি নাই। সারা শরীরে আগুন জ্বলছিলো আমার। এরই নাম ফ্যামিলি?

যার বিয়ে তার মতামতেরই দরকার নাই?

অন্যদের পছন্দে জীবনে আসবে জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গীনী?

ডিজগাস্টিং।

জানি না এসবের সমাধান কি, কী করলে পরে ফ্যামিলির মানুষগুলো বুঝতে পারবে কারো সম্বন্ধে কতটুকু কথা বলার অধিকার একজন মানুষের থাকে।

এই লিখতে লিখতেই রাগে-ক্ষোভে ফেটে পড়ছি আমি। কেনো? কেনো এমনটা হবে? কেনো কেউ তার নিজের জীবনের অন্তত এই একটা সিদ্ধান্ত নিজে থেকে নিতে পারবে না?

ভাগ্যিস আমি আমার ফ্যামিলিকে কখনোই এই একটা ক্ষেত্রের প্রায়োরিটি দিয়ে রাখি নাই। ফ্রম লাভ টু ম্যারেজ, আই নিড নো ওয়ানস ডিসিশন, নট ইভেন অপিনিয়নস। কিন্তু যাদেরকে জীবনে এমনটা সহ্য করতে হয় তাদের জন্য ভীষন কষ্ট লাগে। কতোটা অসহায় তারা...

Recommended Recommends

Comments

Contact Us