আঞ্চলিক ভাষা। ভালো নাও লাগতে পারে, তাই বলে তামাশা করবেন না.....


এমন ভাবার দরকার নাই যে কেউ আজ আমাকে কটাক্ষ করেছে, মনের কষ্ট থেকে লিখছি। লিখার প্ল্যাণ সন্ধা থেকেই ছিলো শুধু একাম-সেকাম-আকাম-কুকাম করতে যেয়ে লেখা হয়ে ওঠেনি।

আমাদের ভাষা বাংলা, অঞ্চল ভেদে আছে আঞ্চলিক বাংলা। এই আঞ্চলিক বাংলা গুলো মূল বাংলা থেকে ক্ষেত্র বিশেষে অনেকটা দূরে অবস্থান করে, যেমন চট্টগ্রামের ভাষা বোঝা বড় দায়। প্রত্যেকেই কোন না কোন অঞ্চলে বড় হয়ে ওঠেন, ওয়েল সেটা আপনি চান বা না চান। আর পড়ালেখা করা সত্যেও সেই অঞ্চলের ভাষা ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রেই আপনার শেখা হয়ে যায়। ভালো ভাষায়, যেটাকে বলা যায় অনেকটা শুদ্ধ বাংলা ভাষা, কথা বলতে গেলেও চলে আসে সেই আঞ্চলিক ভাষার টান। যখন নিজের এলাকার বন্ধু-বান্ধবদের সাথে কথা হয় তখন সেটা আরো বেশি ভাবে চলে আসে। সেটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু আমাদের মাঝেই কিছু মানুষ আছে যারা অন্যের আঞ্চলিক ভাষাকে কটাক্ষ করে। আমি এটা কোন ভাবেই বলতে চাচ্ছি না যে আসুন আমরা যার যার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলি। যেটা বলতে চাচ্ছি সেটা হলো যে, সেটাকে কটাক্ষ করারও কিছু নাই। কতটা কষ্ট হয় এর জন্য তা বোঝাও উচিত। শুনতে খারাপ লাগলেও তা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে কৌশল অবলম্বন করা উচিত। যেমন চলার পথে এমনটা শুনলে আপনার কিছুই বলার দরকার নাই। কিন্তু যদি আপনার বন্ধু হয়, তাহলে পার্সোনালি তাকে এটা বলতে পারেন যে আঞ্চলিক ভাষার টান টা তার ত্যাগ করা উচিত। কিন্তু তা না করে তাকে হাসির পাত্র করা, তার আঞ্চলিক ভাষাটাকে উপহাস করা এটা কখনোই ঠিক হতে পারে না।

এই যেমন আমাদের রাজশাহীতে এসে কোন নওগাঁর মানুষ তার ভাষায় কথা বললে কিছু স্মাট (!) ছেলে-মেয়ে তাদের নিয়ে হাসাহাসি করে, তাদের নকল করে, বাঁকা দৃষ্টিতে তাকায়। এই রাজশাহীর ছেলে-মেয়ে গুলোই আবার ঢাকায় গেলে উপহাসের পাত্র হয়। আবার সেই ঢাকাইয়া গুলোকেও ঐ একি কারণে আমি উপহাসের পাত্র বানাতে পারি। কেনো বস্, আপনার কি মনে হয় ঢাকাইয়া ভাষাটিই বাংলা ভাষা....বাকি গুলো বানের জলে ভেসে এসেছে। ঢাকাইয়া ভাষাটিও আঞ্চলিক ভাষা।

কিন্তু ব্যাপারটা এমন হইছে যে ঢাকাইয়া ভাষায় ব্লগ লেখা যাবে, গালাগালি করা যাবে আর বাকি ভাষা গুলোকে নিয়ে তারা উপহাস করবে। তাদেরও মনে রাখা উচিত যে ঐ ঢাকাইয়া ভাষাটিও কৌতুক এর মতোই শোনায়। যেমন মনে রাখা উচিত রাজশাহীর ভাষাটিকেও অন্যের কাছে হাস্যকর মনে হবে।

নিজের ভাষায় কথা বলতে ভালো লাগে, তাই না.......তা বলুন না, অন্যকে, অন্যের ভাষাকে নিয়ে কৌতুক করে কেনো কষ্ট দিচ্ছেন....কেনো...

এরকম করবেন না প্লিজ। এই নেগেটিভ কৌতুক কাউকে কাউকে মানসিক ভাবে অনেকটা অসহায় করে দিতে পারে। আপনার শহরের হোস্টেলে ‍ওঠা প্রাণোচ্ছল ছেলেটাকে ঘরকুনো করে দিতে পারে, তার একটা বা দুইটা সেমিস্টার নষ্ট করে দিতে পারে, তার নিজের কাছেই নিজেকে কৌতুক মনে করাতে পারে।

এরকম করবেন না প্লিজ।

বাংলা চর্চা করুন, ইচ্ছে না হলে নিজের আঞ্চলিকেই কাজ চালান, কিন্তু তাই বলে অন্যের আঞ্চলিককে হেয় করবেন না।

এই গুণটি আমার নেই যে আমি গুছিয়ে লিখবো....আর এই তাড়নায় পোস্টও দিতে পারি না...শুধু মনে হয় যেটা বলতে চাচ্ছি তা মিন না হয়ে অন্য কিছু মিন করা হয়ে যাবে। সে যাই হোক, আমার চাঁপাই নবাবগঞ্জের, নওগাঁর, নাটোরের, বগুড়ার, রংপুরের বন্ধু আছে ক্যাম্পাসে। আইএসএসবি এর কোচিং করার সময় চট্টগ্রাম, নোয়াখালি, সিলেটের, দিনাজপুরের বন্ধুও পেয়েছিলাম। সবার ভাষাই শুনেছি, ভালো লেগেছে, হাসি লেগেছে, দূর্বোধ্যও লেগেছে। শেয়ার করছি, শোনাইছি নিজের ভাষাও। কই কেউ তো কাউকে কষ্ট দেই নাই। “প্রথম” কে যখন কেউ “পরথম” বলছে হাসি তো আসছেই, কিন্তু কটাক্ষ করে বলি নাই, নাক শিটকিয়ে বলি নাই যে “কি ভাষারে তোদের..”। আবার গ্রামের কেউ যখন তাদের গ্রাম ভাষা, শুধু ভাষা নয় বিভিন্ন গ্রাম্য শব্দও ব্যবহার করছে তখনও তাকে তাচ্ছিল্য করি নাই। বলেছি যে “এটা”-কে মূলত বইপত্রে-পত্রিকায় “এটা” লিখা হয়, কিন্তু বলে উঠি নাই “গেঁয়ো শব্দ বলিস না, আমার বমি আসছে।”

আধুনিকতা নামে তো এখন সাধু-চলিত মিশিয়ে, মুখের বিশেষ ভঙ্গিমার মাধ্যমে কথা বলা হচ্ছে....সেটাও বাংলা না, তবে ভাবটা এমন যেনো বিশুদ্ধ মিনারেল ওয়াটার খাওয়াচ্ছেন।

যাই হোক, কথায় কথা বাড়ে ব্যঞ্জনে বাড়ে ঝোল........মূল কথা, অন্যকে কটাক্ষ করে নয়, ভালো ভাষায় কথা বলতে তাকে উদ্বুদ্ধু করেন, পার্সোনালি ভুল ধরিয়ে দেন, অন্যের সামনে তামাশা করে নয়। 

Author: Tanmay Chakrabarty

Tanmay Chakrabarty is a former CSE student, currently working as a Senior Software Engineer with 5+ years of experience in the field of Web Application development in PHP+MySQL platform with strong skills in Javascript, JQuery, JQuery UI and CSS. He tries to write notes every week but fails due to heavy loads of duty.

Recommended Recommends

Comments

Contact Us